মহাকর্ষঃমহাবিশ্বের অনন্ত বিস্ময়

 মহাকর্ষঃমহাবিশ্বের অনন্ত বিস্ময়

ক. মহাকর্ষ বল শুন্য কোনো স্থানের কল্পনা করাও অসম্ভব (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২১)।

IRRSTC এর  ভাষ্যঃ সুতরাং, ‌কম-বেশি মহাকর্ষ বল প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহে থাকার কথা।

খ. “মহাকর্ষ বলের প্রাবল্য যেখানে কম, সেখানে আপনার ওজন কম হবে, নিজেকে তত হালকা মনে করবেন আপনি। আর মহাকর্ষের প্রাবল্য খুব বেশি যেখানে, সেখান থেকে পা তুলতেই আপনি হিমশিম খাবেন” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২১)।

IRRSTC এর  ভাষ্যঃ এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মহাকর্ষ ওজনদার এক প্রকার মহাকাশীয় শক্তি যা উপর থেকে নীচের দিকে চাপের কারণে মহাকর্ষের প্রাবল্য খুব বেশি যেখানে, সেখান থেকে পা তুলতেই হিমশিম খেতে হয়।

গ. “মহাকর্ষীয় ভর বলে আমরা যেটাকে জানি, যার কারণে আমাদের ভারী ও হালকা অনুভূতি হয়, সেটা আসলে ওজন (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২০)।

IRRSTC মনে করে, ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরিজনে (ঘটনা দিগন্ত) প্রবল বেগে মহাকর্ষ প্রবেশ করার কারণে মহাকর্ষের প্রবল চাপে আলো পর্যন্ত ফিরে আসতে পারে না।

উল্লেখ্য, চাঁদে মহাকর্ষ বল কম বিধায় ১৯৬৯ জুলাই মাসে নাসা কর্তৃক উৎক্ষেপিত অ্যাপোলো-ইলেভেনের নভোচারি নীল আমর্স্ট্রং-কে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে হয়েছিল।

সংগত কারণে প্রশ্ন দাঁড়ায়ঃ গ্র্যাভিটন কি দিয়ে তৈরি? 

IRRSTC এর  মতে, “মহাকর্ষীয় ভর বলতে সেটা যদি আসলে ওজন হয়, তাহলে তা হবে মহাকর্ষীয় ভারী কিছু-যা প্রবলভাবে উপর থেকে চাপার কারণে বাতাসের উর্ধ্বচাপ সত্ত্বেও আমরা আমাদের দেহের ওজনযোগে বহাল তবিয়তে ভূপৃষ্ঠের ভূত্বকে চুম্বকের ন্যায় লেগে থাকি যাতে থাকতে পারে গ্র্যাভিটন জাতীয় কিছু। কারণ, প্রত্যেক বিষয় জোড়া জোড়া। সবল এবং দূর্বল নিউক্লিয় বল, বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলে প্রতিবল পাওয়া গেছে বাকী মহাকর্ষ বলেও প্রতিবল স্বরূপ গ্র্যাভিটন পাওয়া যাওয়ার কথা।

IRRSTC এর  মতে, গ্র্যাভিটনটা হতে পারে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের সাথে মাটিতে নিহিত খনিজ ম্যাগনেশিয়ামের সংমিশ্রন-যা মাটির খনিজ আয়রনের সাথে মিথস্ত্রিয়ায় তৈরি হতে পারে গ্র্যাভিটন জাতীয়  কণার। সাধারণ নিয়ম হচ্ছেঃচুম্বক আকর্ষণধর্মী যা লোহাকে আকর্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ছোট ছোট কিছু লোহার টুকরা মাটিতে রাখি।অতঃপর মাঝারি সাইজের একটি চুম্বক উপর থেকে লোহা বরাবর রাখা হলে দেখা যাবে,চুম্বক লোহাকে টেনে উপরে তুলে এনেছে।কিন্ত্ত লোহার খন্ড যদি ভারি/বড় হয় চুম্বক খন্ড যদি ছোট হয় তাহলে লোহা টেনে নেবে চুম্বক খন্ডটিকে।অনুরূপ বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল যত শক্তিশালী হোক না কেন, খনিজ আয়রনসমৃদ্ধ বিশাল পৃথিবী বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল-কে আকর্ষণ করতে গিয়ে তাতে সৃষ্টি হয় গ্র্যাভিটন জাতীয় কণা। যেহেতু আমাদের দেহও খনিজ ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ,তাছাড়া আমাদের দেহে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলেরও প্রভাব রয়েছে সেহেতু খনিজ লোহা সমৃদ্ধ বিশাল আয়তনের পৃথিবী আমাদেরকে ম্যাধ্যাকর্ষণ শক্তির নামে টেনে নেয় যাকে গ্র্যাভিটন বলা যেতে পারে কারণ, আমাদের দেহ খনিজ ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশিবিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল দ্বারা প্রভাবিত ।

উল্লেখ্য, মহাকর্ষের নিম্নমুখী চাপের ফলে আমরা লাফ দিয়ে উপরে ভাসতে পারি না, নীচে পড়ে যেতে হয়। পৃথিবী তার খনিজ অআয়রনের কারণে অআমাদের ম্যাগনেশিয়াম প্রভাবিত দেহকে টেনে নেয়।

প্রমাণঃ আমাদের দেহ খনিজ ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশিবিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে ভূত্বকে অআমাদের পা লেগে থাকে। কিন্ত্ত বয়স বাড়ার সাথে সাথে ম্যাগনেশিয়াম কমে যাওয়ায় ভূত্বকে ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃদ্ধদের লাঠি নিতে হয়। বৃদ্ধরা পানিতে নামলে তাই পানির উর্ধ্বচাপে সহজে উর্ধ্বমুখী হতে হয়। বজ্রপাতে নিহতদের মরদেহ দাড়ন্ত  থাকে সম্ভবত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় প্রভাবের কারণে। তবে, এতেও থেকে যায় প্রশ্ন।কারণ, মানব দেহ কেবল খনিজ ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ নয়,,খনিজ আয়রনসমৃদ্ধও যা গ্র্যাভিটন সৃষ্টির জন্য প্রতিবন্ধক। তাহলে মহাকর্ষ এবং তার প্রতিবল গ্র্যাভিটনের ধারণা ধোপে টিকছেনা। অতএব, মহাকর্ষ ও  তার প্রতিবলের উৎস কোথায়?

প্রশ্ন হচ্ছেঃ মহাকর্ষ কি দিয়ে তৈরি? যদি বলা হয়ঃ গ্র্যাভিটন দিয়ে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়ঃ গ্র্যাভিটন কি দিয়ে তৈরি?  IRRSTC এর  মতে, যেহেতু মহাকর্ষে ভর বা  ওজন আছে এবং যার কম-বেশির কারণে নিজেকে হালকা অথবা ভারি অনুভব হয়-এতে প্রতীয়মান হয় যে,মহাকর্ষ টানে না বরং চাপে।

প্রশ্ন দাঁড়ায়ঃ গ্র্যাভিটন কি দিয়ে তৈরি?

IRRSTC এর  ভাষ্যঃ যেহেতু মহাকর্ষে ভর বা  ওজন আছে এবং যার কম-বেশির কারণে নিজেকে হালকা অথবা ভারি অনুভব হয়-এতে প্রতীয়মান হয় যে,মহাকর্ষ টানে না বরং নিম্নমুখীভাবে চাপে তাতে প্রতীয়মান হয় যে, মহাকর্ষের নিম্নমুখী প্রবল চাপের কারণে বাতাসের উর্ধ্বমুখী চাপ সত্ত্বেও আমরা ভূত্বকে চুম্বকের মত লেগে আছি। তাতে মনে হয় মহাকর্ষে সম্ভবতঃ বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের প্রভাবে ম্যাগনেট জাতীয় কিছু জড়িয়ে আছে। পক্ষান্তরে ভূত্বকে রয়েছে খনিজ লোহা যা বিদ্যুৎচুম্বকীয় বল প্রভাবিত মহাকর্ষকে তার দূর্বলতার কারণে প্রবলভাবে গ্র্যাভিটন সৃষ্টির ফলে মানুষসহ ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী জীব-জন্ত্ পড়ে চাপে। একদিকে দেহের ভর, আরেকদিকে মহাকর্ষের চাপ আরেক দিকে মহাকর্ষের প্রতি ভূত্বকের টান-এই চাপাচাপি আর টানা টানির  আবর্তে আমরা ভূত্বকে লেগে থাকি। অবশ্য এই যুক্তি অন্য বিবেচনায় ধোপে টিকছে না। যুক্তিটি হচ্ছেঃমানবসহঅন্যান্য  বিচরণশীল প্রাণীর দেহও বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল দ্বারা যেমন প্রভাবিত তেমনি দেহে খনিজ লোহার অস্তিত্বের কারণে মহাকর্ষের চাপাচাপি অআর ভূত্বকের টানাটানির যুক্তিটা অর্থহীন হয়ে পড়ে।অর্থাৎ মহাকর্ষ কোনো যুক্তিতেই অস্তিত্বশীল  হচ্ছে না যার কারণে মহাকর্ষকে বলা হয়ঃমহাকর্ষঃমহাবিশ্বেরমহাবিস্ময়।


Comments

Popular posts from this blog

The Holy Islam: A Tolerant Human Life System or Religion.

Unique Green World Pictures